এখন বর্তমানে জেরক্স ও অনলাইন দোকানের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবং পরবর্তীতে এই জেরক্স ও অনলাইন দোকান টি খুব জনপ্রিয় হবে। এই ব্যবসাটি করে আপনি প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকা কিংবা তার বেশি ইনকাম করতে পারেন। তবে এই দোকানটি যদি সঠিকভাবে সঠিক জায়গায় খোলেন, তবে আপনি ভালো টাকা ইনকাম করতে পারেন।
এখন, ভারতে বেকারত্বের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন যোগ্যতা এবং ডিগ্রি অর্জনের পরে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বেকার। তাই, এই ধরনের দোকান খুলে আপনি, আপনার শিক্ষাকে কাজে লাগাতে পারবেন আবার ইনকাম ও করতে পারবেন।
আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা
আমি ২০১৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের একটি গ্রামীণ বাজার এলাকায় একটি ছোট জেরক্স ও অনলাইন দোকান ব্যবসা শুরু করি। প্রাথমিকভাবে, জেরক্স ও অনলাইন ফর্ম ফিলাপ, স্কুল-কলেজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি ইত্যাদি শুরু করি। পরবর্তীতে লেমিনেশন, mobile accessories, মোবাইলে রিচার্জ, ইত্যাদি সার্ভিসগুলো যুক্ত করি। ফলে আমার দোকানটি খুব ভালো চলছে।
তাই আজকের পোস্টের মাধ্যমে, আমি আলোচনা করব কিভাবে আপনি জেরক্স ও অনলাইন দোকান খুলে প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন।
আজকের পোস্টে, আমি এই মূল বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করব:
- এই দোকান শুরু করার জন্য কী করা উচিত?
- জেরক্স ও অনলাইন দোকান ব্যবসার সেরা স্থান
- এই দোকান শুরু করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনুমতি?
- কি সরঞ্জাম প্রয়োজন হবে?
- কত টাকা বিনিয়োগ করতে হবে?
- মাসিক আয়?
দোকান শুরু করার জন্য কী করা উচিত?

ছোট বা বড় যেকোনো ব্যবসা শুরু করার আগে একটি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রয়োজন, তাই আপনাকে আগে থেকেই চিন্তাভাবনা এবং পরিকল্পনা করতে হবে-
দোকানটি কত বড় হবে?
সমস্ত সরঞ্জাম কিনতে কত টাকা খরচ হবে?
আপনার ব্যবসায়িক কৌশল? ইত্যাদি
তাই আগে থেকে একটি পরিকল্পনা করুন এবং সেই অনুযায়ী কাজ শুরু করুন।
সম্পর্কিত পোস্ট
দোকানের জন্য সেরা স্থান
এই কম্পিউটার দোকানগুলি খোলার আগে, আপনাকে ভাবতে হবে যে যেহেতু এই দোকানগুলির ৮০% গ্রাহক স্কুল এবং কলেজের ছাত্র, তাই স্কুল-কলেজ, বড় অফিস বা সরকারি অফিসের সামনে আপনার দোকান স্থাপন করা খুবই ভালো। কারণ আপনার দোকানে যত গ্রাহক বেশি আসবে আপনার ইনকাম তত বেশি হবে। তাই এমন ভাবে জায়গা নির্বাচন করুন যেখানে বিভিন্ন অফিস থাকবে, স্কুল কলেজ থাকবে, বাজার থাকবে ইত্যাদি।
অথবা যদি আপনি এই দোকানটি প্রধান রাস্তার কাছে করতে পারেন, তাহলে এখানে ব্যবসা ভালো হবে।
দোকানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনুমতি
এই সমস্ত ব্যবসা করার আগে, আপনাকে আপনার দোকানের নাম নির্ধারণ করতে হবে এবং দোকানের নাম অনুসারে, আপনাকে পঞ্চায়েত অফিস বা অনলাইন পোর্টাল থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে।
এবং আপনি যে জায়গার উপরে দোকানটি তৈরি করবেন ওই জায়গার উপযুক্ত নথিপত্র আপনার কাছে থাকতে হবে। যদি আপনার নিজস্ব জায়গা হয় তাহলে জমির কাগজপত্র রাখতে হবে। আর যদি ভাড়া বাড়ি হয় তাহলে Rent Agreement আপনার কাছে থাকতে হবে।
প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কি দরকার
এখন আমি আলোচনা করব আপনার দোকানের জন্য কী কী জিনিসপত্রের প্রয়োজন হবে।

আপনার দোকানের জন্য সরঞ্জামের তালিকা
- কম্পিউটার সেট (সিপিইউ, মাউস, কীবোর্ড, মনিটর) (৪০-৫০) হাজার টাকা
- মিনি জেরক্স মেশিন (২৫-৩০) হাজার টাকা
- All in One প্রিন্টার (১১-১২) হাজার টাকা
- ল্যামিনেশন মেশিন ৩০০০ টাকা
- টেবিল/কম্পিউটার ডেস্ক ৫০০০ টাকা
- অতিরিক্ত (জেরক্স পেপার, ল্যামিনেশন পেপার, ফটো পেপার) ৫০০০ টাকা
এবার আপনি দোকানের মধ্যে আরো যা যা সরঞ্জাম রাখতে চান অবশ্যই রাখতে পারেন। আপনার এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী আপনি জিনিসগুলি দোকানে সাজাতে পারেন। যেমন – স্কুল কলেজের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।
কত টাকা খরচ হবে?
আমি যে সমস্ত সরঞ্জাম গুলির কথা বললাম, সেই অনুযায়ী সরঞ্জাম গুলি কিনলে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা খরচ হতে পারে। তবে আপনি চাইলে প্রথমে কম জিনিসপত্র কিনে ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। পরবর্তীতে যখন আপনার দোকানে লাভ হবে তখন কিছু কিছু জিনিসপত্র নিয়ে এসে রাখতে পারেন।
তাই আমার মতে, প্রথমে শুধুমাত্র একটি কম্পিউটার এবং ছোট্ট জেরক্স মেশিন দিয়ে দোকানটি শুরু করুন। তাহলে কম খরচে দোকানটি শুরু করতে পারবেন।
- RRB Station Master Recruitment 2026: ১,২৬৫ শূন্যপদে আবেদন শুরু, যোগ্যতা, সিলেবাস ও সম্পূর্ণ তথ্য
- অক্টোবর মাসের সেরা ৫টি চাকরির বিজ্ঞপ্তি| Top 5 Govt Job Vacancy in October
- পোস্ট অফিসে GDS Result 2026| GDS Schedule II 1st Merit List Download|কিভাবে চেক করবেন?
- বার্ধক্য/ বিধবা/ প্রতিবন্ধী ভাতা প্রকল্পের স্ট্যাটাস চেক| Old Age Pension Status Check|Samarth Portal
- WBPSC Clerkship Recruitment : মাধ্যমিক পাশেই সরকারি চাকরি| আবেদন, যোগ্যতা, পরীক্ষা ও সিলেবাস
সমস্ত পরিষেবার তালিকা(Service)
দোকান খুলে দোকানের মধ্যে বিভিন্ন সার্ভিস গুলো দিন যাতে আপনার দোকানে গ্রাহকরা আসে।
- সকল ধরণের অনলাইন ফর্ম পূরণ ,বিভিন্ন ধরণের সরকারি প্রকল্পের ফর্ম পূরণ ইত্যাদি।
- জেরক্স (কালো এবং সাদা, রঙিন)
- গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ল্যামিনেশন করতে পারেন।
- ফটো তোলা, তবে এর জন্য আপনাকে লাইট এবং ক্যামেরা কিনতে হবে।
গ্রাহকের ছবি তোলা, অর্থাৎ গ্রাহকদের পাসপোর্ট সাইজের ছবি তোলা যেতে পারে। এই সমস্ত দোকান ব্যবসায় ফটো প্রিন্টিং সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা। তবে, পাসপোর্টের ছবি এবং ফটো এডিটিং এমন দক্ষতা যা যেকোনো ফটোশুট কোর্সে শেখা যেতে পারে।
- Airtel , Vodafone, Jio SIM এবং এই সমস্ত কোম্পানির রিচার্জ করা।
এই রিচার্জ ব্যবসার জন্য, আপনার প্রথমে একটি রিচার্জ আইডির প্রয়োজন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ – জিও সিম রিচার্জের জন্য Jio pos plus ID সবচেয়ে ভালো।
- DTH রিচার্জ এবং Current বিল জমা সহ ইত্যাদি।
- প্যান কার্ড আইডি দিয়ে প্যান কার্ড তৈরি করা ইত্যাদি।
মাসিক আয়
এখন আমি আপনাকে এই ৭টি পরিষেবা সম্পর্কে বললাম, যদি আপনি এই সমস্ত পরিষেবা প্রদান করেন, তাহলে আপনি ব্যবসার শুরুতে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন।
আপনার ব্যবসা ভালোভাবে শুরু হলে, আপনি প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করতে পারবেন। আর আপনি সহজেই প্রতি মাসে ১৫০০০ টাকা আয় করতে পারবেন এবং যদি আপনার আয় আরও বাড়াতে চান, তাহলে এই দোকান দিয়ে স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েদের জন্য স্কুল স্টেশনারি পণ্যও রাখতে পারবেন। বিভিন্ন ধরণের পণ্য – কলম, পেন্সিল, নোটবুক, রঙ, স্টিকার ইত্যাদি। যদি আপনি আপনার দোকানে এগুলো রাখেন, তাহলে আপনার আয় দ্বিগুণ হবে।
বোনাস টিপস
যেহেতু আপনি একজন দোকানদার, আপনি যদি আপনার গ্রাহকদের সাথে খুব ভালো ব্যবহার করেন, তাহলে সেই গ্রাহক আপনার দোকানে ফিরে আসবে, আপনার বিক্রি বাড়বে এবং আপনার দোকানের প্রচার হবে, তাই আপনার সর্বদা ভালো পরিষেবা প্রদান এবং আপনার গ্রাহকদের সাথে খুব ভালো আচরণ করার চেষ্টা করা উচিত। তাহলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আপনার দোকানের কথা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে এবং আপনার দোকানের বিক্রি এক থেকে দুই গুণ বৃদ্ধি পাবে।
Frequently Asked Questions
এটি একটি অফলাইন দোকান ব্যবসা যেখানে অনলাইন পরিষেবা, জেরক্স, ল্যামিনেশন, ফটো প্রিন্ট, ফর্ম পূরণ, রিচার্জ, বিল পেমেন্ট ইত্যাদি প্রদান করা হয়।
এই ব্যবসা শুরু করতে আপনার প্রায় ৫০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।
Conclusion
এবার সবশেষে একটাই কথা বলতে চাই, এই দোকান ব্যবসাটি একটি লাভদায়ক ব্যবসা। সঠিকভাবে ব্যবসাটি করতে পারলে প্রতি মাসে ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন। জেরক্স ও অনলাইন দোকান থেকে শুরু করে আপনি পরবর্তীতে অন্যান্য জিনিসপত্র রেখে আরো ভালোভাবে ইনকাম করতে পারেন। তাই ব্যবসাটি শুরু করার আগে পরিকল্পনা করুন, ব্যবসাটি ছোট থেকে শুরু করুন এবং এগিয়ে যান। আপনার দোকানের সফলতা কামনা করে এখানে পোস্টটি লেখা শেষ করলাম। আপনাদের এই দোকানের কোনো অভিজ্ঞতা থাকলে আমাকে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।ধন্যবাদ।।
▪️সরকারি প্রকল্প: বিস্তারিত পড়ুন

আমি Biswajit Mandal, একজন অভিজ্ঞ Content Creator, YouTuber, এবং Professional Content Writer। গত ৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমি নিয়মিতভাবে সরকারি প্রকল্প, চাকরি সংক্রান্ত তথ্য, ক্যারিয়ার গাইড, স্কলারশিপ, ও অনলাইন ফর্ম ফিলাপ সংক্রান্ত বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করে আসছি।
