কৃষক বন্ধু প্রকল্প কি? প্রতি বছর ১০০০০ টাকা

Spread the love

দেশের সমস্ত কৃষকদের জন্য এই কৃষক বন্ধু প্রকল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প যা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ২০১৯ সালে চালু করা হয়েছিল। এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করলে আপনি প্রতিবছর টাকা পেতে থাকবেন। রাজ্যের কৃষকদের জন্য এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে যেখানে আপনি খুব সহজেই আবেদন করে আপনার ব্যাংক একাউন্টে টাকাটি পেতে পারেন।

বিশেষভাবে এই প্রকল্পের মধ্য দিয়ে কৃষকদের রবি ও খারিপ মরশুমে কৃষি উপকরণ ক্রয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয় যা কৃষকদের জন্য অনেকটা লাভদায়ক। কৃষি জমির পরিমাণ অনুযায়ী কৃষকদের এই প্রকল্পের মধ্য দিয়ে ৪০০০- ১০০০০ টাকা দেওয়া হয়।

তবে সবার প্রথমেই আপনাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলে দিই- এই কৃষক বন্ধু প্রকল্পের আবেদন করার সময় আপনি যে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জমা করবেন ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যেন আধার লিঙ্ক এবং মোবাইল নাম্বার লিঙ্ক থাকে তবেই কোনো অসুবিধা ছাড়াই আপনার একাউন্টে টাকাটা ক্রেডিট হবে।

এই প্রকল্প সম্বন্ধে আমার অভিজ্ঞতা

গত চার বছর ধরে সাইবার ক্যাফে পরিচালনা করছি। কৃষক বন্ধু প্রকল্প নিয়ে আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে, কারণ বহু কৃষকের জন্য আমি নিজে হাতে এই প্রকল্পের অফলাইন ফর্ম ফিলাপ করেছি, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সাজিয়ে দিয়েছি এবং অনলাইনে স্ট্যাটাসও চেক করে দিয়েছি। অনেক সময় প্রকল্পে সমস্যা হলে কীভাবে সমাধান করতে হয়, তাও আমি শিখেছি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আমি এই পোস্টে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরছি, যাতে তোমরা সহজে বুঝতে পারো কীভাবে উপকার পেতে পারো।

কারা আবেদন করতে পারবেন?

  • কৃষকের বয়স ১৮-৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
  • কৃষকের নিজস্ব চাষযোগ্য জমি থাকতে হবে। ভাগ চাষি হলে ও আবেদন করতে পারবেন।
  • কৃষকের নিজের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, Bank Account থাকতে হবে।

কি কি সুবিধা পাবেন?

এই প্রকল্পের মধ্য দিয়ে কৃষকদের অর্থের ও বীমা সুবিধা দেওয়া হয়। যাতে কৃষকরা রবি ও খারিপ শস্য ভালোভাবে উৎপাদন করতে পারে।

এই প্রকল্পের বিভিন্ন সুবিধাগুলো হলো –

  • আর্থিক সহায়তার সুবিধা:কৃষক বন্ধু প্রকল্পে রবি ও খারিপ মরশুমে কৃষি উপকরণ কেনার জন্য টাকা দেওয়া হয়। যদি কৃষকের জমির পরিমাণ এক একর কিংবা তার বেশি থাকে তাহলে সমান দুই কিস্তিতে সর্বাধিক ১০০০০ টাকা দেওয়া হয়।
  • আবার যদি কৃষকের জমির পরিমাণ এক একর এর কম হয়ে থাকে তাহলে দুটি সমান কিস্তিতে সর্বাধিক ৪০০০ টাকা দেওয়া হয়।
  • বীমা সুবিধা: কৃষক বন্ধু প্রকল্পে যদি কোনো কৃষক বা নথিভুক্ত ভাগ চাষি  ১৮-৬০ বছর বয়সের মধ্যে মারা যান তাহলে, তার আইনসম্মত যে Nominee/উত্তরাধিকারী রয়েছে তাকে এককালীন ২ লাখ টাকা দেওয়া হবে।

কি কি ডকুমেন্টস লাগবে?

  • চাষযোগ্য জমির পরচা/রেকর্ড
  • ভোটার কার্ড
  • আধার কার্ড
  • ব্যাংকের পাশবই (Aadhaar Link)
  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  • মোবাইল নাম্বার

কিভাবে আবেদন করতে হবে?

কৃষক বন্ধু প্রকল্পের জন্য অনলাইনে আবেদন করা যায় না, শুধুমাত্র অফলাইনে অর্থাৎ ফর্ম ফিলাপ করে জমা করতে হয়।

  • প্রথম দুয়ারে সরকার ক্যাম্প থেকে ফর্ম সংগ্রহ করুন।
  • ফর্মটি সঠিকভাবে ফিলাপ করুন আপনার যাবতীয় সমস্ত কিছু তথ্য দিয়ে।
  • ফর্মের সাথে যাবতীয় সমস্ত ডকুমেন্টস যুক্ত করে ফর্মটি জমা করুন ক্যাম্পে।
  • ফর্ম জমা দেওয়ার পর Acknowledgement Slip সংগ্রহ করুন।
  • Application Approved হলে আপনার Aadhaar Link ব্যাংক একাউন্টে টাকা দেওয়া হবে।

Releted Post
আমার পাড়া আমাদের সমাধান প্রকল্প সম্বন্ধে জানুন

Kisok Bandhu Application Status Check

কৃষক বন্ধু প্রকল্পের আবেদনপত্রটি Approved হয়েছে কিনা, টাকা একাউন্টে এসেছে কিনা,Application Status কি এইসব তথ্য জানার জন্য আপনাকে Application Status Check করতে হবে Kishok bondhu এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এ ভিসিট করে। কিভাবে Application Status চেক করবেন দেখুন –

Krishak Bandhu Application Status
  • প্রথমে Kishok Bondhu এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এ যান।(https://krishakbandhu.net)
  • “নথিভুক্ত কৃষকের তথ্য” অপশনে ক্লিক করুন।
  • Application Status চেক করার জন্য যেকোনো একটি I’d সিলেকশন করুন। যেমন – Aadhaar Card, Voter ID card, Bank Account, kB ID, Mobile Number, Acknowledgement ID)
  • আপনি যে ID সিলেকশন করবেন ওই I’d এর নাম্বার নিচের ঘরে বসিয়ে দিন।
  • Captcha Verify করুন।
  • তারপর Search অপশনে ক্লিক করুন।
  • Search অপশনে ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গে আপনার আবেদনের স্থিতি (Application Status)দেখতে পাবেন। আর যদি Record Not Found দেখায় তাহলে বুঝবেন আবেদন আবেদন Successfull হয়নি।

Krishak Bandhu Form 2025 pdf download

কৃষক বন্ধু প্রকল্পের আবেদন করার জন্য অবশ্যই Krishak Bandhu Application form দরকার। আপনি চাইলে krishakbandhu.net এই অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে ফর্ম ডাউনলোড করতে পারবেন। ফর্মটি Pdf Format এ ডাউনলোড হবে। কৃষক বন্ধু প্রকল্পের আবেদন পত্র টি ডাউনলোড করার পর Print করবেন A4 size পেপার এ।

যদি আপনার প্রতিটি Documents সঠিক থাকে, জমির রেকর্ড এর সাথে আপনার প্রতিটি ডকুমেন্টস এর নামের বানান ঠিক থাকে তাহলে আপনি অবশ্যই এই প্রকল্পের মধ্য দিয়ে টাকা পাবেন।

Frequently Asked Questions

কৃষক বন্ধু প্রকল্প কী?

এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি আর্থিক সহায়তা প্রকল্প, যেখানে রাজ্যের কৃষকদের বছরে সর্বোচ্চ ₹10,000 আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়—দুই কিস্তিতে।

এই প্রকল্পের জন্য কারা যোগ্য?

পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা এবং নিবন্ধিত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত।

কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকাটা কোথায় পাঠানো হয়?

সহায়তার টাকা সরাসরি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয় DBT (Direct Benefit Transfer) পদ্ধতিতে।

অনলাইনে স্ট্যাটাস কীভাবে চেক করব?

https://krishakbandhu.net ওয়েবসাইটে গিয়ে কৃষকের ভোটার কার্ড নম্বর বা রেজিস্ট্রেশন আইডি দিয়ে স্ট্যাটাস চেক করা যায়।

কৃষক বন্ধু প্রকল্পে আবেদন করতে কী কী ডকুমেন্ট লাগে?

আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, জমির পটাকা, ব্যাঙ্কের পাসবুক ও সদ্য তোলা ছবি আবেদন করার জন্য দরকার হয়।

Conclusion

কৃষক বন্ধু প্রকল্প চালু করা হয়েছে কৃষকদের জন্য যাতে তারা বিভিন্ন মরশুমে বীজ কেনা থেকে শুরু করে ,স্যার, ঔষধ এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য কাজে লাগাতে পারেন।

তাই আপনি যদি রাজ্যের কৃষক হয়ে থাকেন অবশ্যই এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করুন আপনার জমির পরিমাণ অনুযায়ী আপনি প্রতিবছর আপনার একাউন্টে টাকা পেতে থাকবেন রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। তবে আপনাদের এই পোস্টে প্রথমেই বলেছ, টাকা পাওয়ার জন্য অবশ্যই আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আধার কার্ডের লিঙ্ক এবং মোবাইল নাম্বার লিঙ্ক থাকতেই হবে তবেই আপনি কোনো সমস্যা ছাড়াই টাকা পেতে থাকবেন। ধন্যবাদ।

আরো নতুন প্রকল্প: ভিজিট করুন

Homepage: Click Here


Spread the love

Leave a Comment