কম খরচে লাভজনক গ্রামীণ ব্যবসা: গ্রামে বসেই শুরু করুন এই ৫টি ডিজিটাল সেন্টার (2025 গাইড)

Spread the love

আপনি যদি আপনার নিজের এলাকায় ছোট্ট একটি Center Business বা কম খরচে লাভজনক গ্রামীণ ব্যবসা করে প্রতি মাসে 20-30 হাজার টাকা ইনকাম করতে চান তাহলে আজকের এই পোস্টটি আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এখন বর্তমানে অনেকেই এইরকম সেন্টার খুলে প্রচুর টাকা ইনকাম করছেন এবং নিজের এলাকায় মানুষদের বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস দিচ্ছেন।

তাই আজকের এই পোষ্টের মাধ্যমে এই Centre Business অথবা Short business ideas সম্বন্ধে বিস্তারিত তথ্য আপনাদের জানাবো, যেমন -কি কি সেন্টার আপনারা খুলতে পারবেন ? সেন্টারগুলো খোলার জন্য কি কি প্রয়োজন হবে ?কত টাকা দরকার ? কি কি সার্ভিস দিতে পারবেন? ইনকাম কত করতে পারবেন? ইত্যাদি সমস্ত কিছু । তাই অবশ্যই পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

💡Top 5 Centre Business Ideas:

১. CSC সেন্টার( Common Service Centre)

CSC বা Common Service Centre হলো ভারত সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল উদ্যোগ । এর মাধ্যমে গ্রামের মানুষ খুব সহজে নিজেদের এলাকার মধ্যে থেকেই সরকারি সমস্ত প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারেন এবং উপভোগ করতে পারেন।

Common Service Centre(C.S.C)

CSC সেন্টার কি?

এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম বা Portal যা গ্রামীণ নাগরিকদের জন্য আধার আপডেট, ভোটার কার্ড, জন্ম সার্টিফিকেট, বিদ্যুৎ বিল জমা দেওয়া, রেশন সংক্রান্ত কাজ এবং আরও অনেক সরকারি পরিষেবার আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করে তোলে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

গ্রাম ও শহরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সমস্ত মানুষের কাছে সরকারি সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর মাধ্যমে সবাই সমস্ত পরিষেবা ,সমস্ত প্রকল্প এবং সমস্ত সরকারি সার্ভিসের লাভ উঠাতে পারবেন।

Requirements:

  • ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক( Madhyamik বা HS) পাশ হতে হবে ।
  • প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম যেমন- একটি কম্পিউটার, একটি প্রিন্টার এবং ভালো ইন্টারনেট সংযোগ থাকা আবশ্যক ।
  • স্থান ন্যূনতম ১০০ – ১৫০ স্কয়ার ফিট একটি ঘর প্রয়োজন ।
  • রেজিস্ট্রেশন Digital Seva Portal- এ সফলভাবে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে ।

আয়ের সম্ভাবনা/Income:

আপনারা অবশ্যই জানেন যে কোনো ব্যবসায় কত টাকা ইনকাম হবে, ওইটা নির্ভর করে আপনি কোন জায়গায় দোকান কিংবা ওই ব্যবসাটা করছেন।

তাই Location অনুযায়ী এবং আপনার দেওয়া পরিষেবার উপর নির্ভর করে মাসে ₹  10,000 থেকে ₹  30,000 পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।

এবার, নতুন পরিষেবা যুক্ত হলে আয় আরও বাড়ার সুযোগ থাকে, যেমন- পাসপোর্ট আবেদন(Passport Online Application), প্যান কার্ড তৈরি(Pan Card), প্রধানমন্ত্রী কিষাণ যোজনা( PM Kisan Yojana) আপডেট এবং আয়ুষ্মান ভারত কার্ড( Ayushman Bharat Card) প্রিন্ট, ইত্যাদি।

২. আধার সেবা কেন্দ্র( Aadhar Seva Kendra)

আধার সেবা কেন্দ্র UIDAI- এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা কেন্দ্র। যার দ্বারা নাগরিকদের আধার সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ করা হয়ে থাকে।

এই Aadhaar Seva Kendra সেন্টার খুলে কি কি সার্ভিস দিতে পারবেন:

আধার সেবা কেন্দ্রে নতুন আধার কার্ডের জন্য রেজিস্ট্রেশন, আধার কার্ডে তথ্য সংশোধন( যেমন নাম, ঠিকানা, জন্ম তারিখ), এবং বায়োমেট্রিক তথ্য( আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিস) আপডেট করার মতো পরিষেবা গুলো দিতে পারবেন।

Aadhaar Seva Kendra (Centre Business)

Centre খোলার নিয়মাবলী:

আবেদন UIDAI- এর মাধ্যমে একজন Enrolment Agency বা Operator হিসেবে আবেদন করতে হয়।

প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম EKYC( ইলেকট্রনিক কেওয়াইসি) ডিভাইস, STQC সার্টিফায়েড ডিভাইস, একটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার এবং একটি আইরিস স্ক্যানার থাকা জরুরি।

প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশন নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।

ইনকাম /Income কেমন?

প্রতিটি আবেদন বা সংশোধনের জন্য ₹ 30 – ₹ 50 পর্যন্ত চার্জ নেওয়া যায় ।

যদি প্রতিদিন ২০ – ৩০টি কাজও করা যায়, তাহলে দৈনিক ₹ 1000 – ₹ 1500 বা মাসিক ₹  25,000 – ₹  40,000 পর্যন্ত আয় সম্ভব ।

বোনাস টিপস: আধার প্রিন্ট, PVC আধার কার্ড এবং eKYC পরিষেবার জন্য আলাদাভাবে চার্জ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যা আয়ের উৎস বাড়াতে পারে।

৩. রেশন ডিলারশিপ/ রেশন দোকান( Ration Shop)

প্রত্যেক পঞ্চায়েতেই একটি সরকারি রেশন দোকান থাকে, যেখান থেকে সাধারণ মানুষ সরকারের নির্ধারিত কম দামে চাল, গম, চিনি ইত্যাদি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করেন । আপনি চাইলেই নিজের নামে একটি রেশন ডিলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারেন ।

এটি মূলত পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম( PDS)- এর একটি অংশ, যা সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে কম দামে খাদ্যশস্য পৌঁছে দিতে সাহায্য করে ।

কী দরকার?(Requirements):

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম অষ্টম বা দশম শ্রেণি পাশ হতে হবে।
  • স্থান কমপক্ষে ২০০ স্কয়ার ফুট জায়গা প্রয়োজন, যা একটি পাকা ঘর এবং গুদামঘর সমেত হতে হবে ।
  • আবেদন প্রক্রিয়া নিকটস্থ খাদ্য দপ্তরে( Food Department) আবেদন করতে হবে ।
  • কোটা জনসংখ্যা অনুযায়ী নির্ধারিত কোটার আওতায় আপনার আবেদন বিবেচিত হবে।

Important: যেহেতু একটি এলাকার মধ্যে একজন ডিলার দরকার হয় , তার জন্য এখানে ডিলারশিপ পাওয়াটা অনেকটা কষ্টের ব্যাপার ,অন্যান্য সেন্টার Business এর তুলনায়।

আয়/income:

প্রতিটি রেশন কার্ডধারীর উপর একটি নির্দিষ্ট কমিশন( প্রতি কেজিতে ₹ 0.50 থেকে ₹ 2 পর্যন্ত) পাওয়া যায় ।
মাসে গড়ে ₹  10,000 – ₹  30,000 পর্যন্ত আয় করা সম্ভব ।

৪. কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার( Computer Training Centre):

এখন বর্তমানে গ্রাম কিংবা শহর ,সবাই মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর সবাই কম্পিউটার শিখতে আগ্রহী। কারণ এখনো আধুনিক যুগে কম্পিউটার শেখাটা অতি আবশ্যিক। তাই আপনি এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে আপনি একটি কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার(Computer Training Centre )খুলতে পারেন।

Computer Training Centre Business

কীভাবে শুরু করবেন?

প্রাথমিকভাবে নিজের ঘরেই এই সেন্টার শুরু করা যায় :-

  • শুরুর জন্য ৩ – ৪টি কম্পিউটার যথেষ্ট।
  • প্রাথমিক কোর্স হিসেবে MS Office( মাইক্রোসফট অফিস), ইন্টারনেট ব্রাউজিং, টাইপিং এবং DTP( ডেস্কটপ পাবলিশিং) শেখানো যেতে পারে ।
  • যদি সম্ভব হয়, NIELIT( ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি) বা PMKVY( প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা)- এর মতো সরকারি স্বীকৃত কোর্স চালু করতে পারেন, যা শিক্ষার্থীদের জন্য আরও আকর্ষণীয় হবে।
  • এবং আপনি চাইলে আপনার পাশাপাশি আপনার মত আরও একজন কিংবা দুইজন-কে ট্রেনার হিসাবে নিযুক্ত করতে পারেন তাহলে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেশি হবে।
  • এবার কম্পিউটার কম থাকার কারণে আপনি চাইলে Batch System -এ ট্রেনিং করাতে পারেন।

আয়/ income:

প্রতি ছাত্রের কাছ থেকে মাসিক ₹ 300 – ₹ 1000 পর্যন্ত ফি নেওয়া যায়। এবার এটি নির্ভর করে আপনি ছাত্র-ছাত্রীদের কোন কোর্সের জন্য ট্রেনিং দিচ্ছেন।

যদি মাসে ৩০ – ৫০ জন ছাত্র থাকে, তাহলে ₹20,000 – ₹40,000 বা তার বেশি আয় সম্ভব।

Tips:অতিরিক্ত আয়ের জন্য ফর্ম ফিলাপ, প্রিন্টিং, স্ক্যানিং- এর মতো পরিষেবা দিয়েও অতিরিক্ত আয় করা যেতে পারে।

Tips 2: একটি YouTube চ্যানেল খুলে অনলাইন ক্লাস নিলে আয়ের নতুন রাস্তা খুলতে পারে।

5. ডিজিটাল ফটোগ্রাফি ও অনলাইন ফটো সেন্টার( Digital Photography & Online Photo Center)

ছবি তোলা এখন আর শুধু স্টুডিও বা ক্যামেরাম্যানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই । সরকারি ফর্ম, কলেজ অ্যাডমিশন, স্কলারশিপ আবেদন, আধার বা পাসপোর্টের মতো বিভিন্ন জরুরি কাজের জন্য পাসপোর্ট সাইজের ছবির প্রয়োজন হয়।

Releted Post

ছবি বিক্রি করে ইনকাম করুন 🤑

এটি এমন একটি সেন্টার যেখানে ছবি তোলা, ছবি প্রিন্ট করা এবং বিভিন্ন ডিজিটাল ডকুমেন্ট সংক্রান্ত পরিষেবা দেওয়া হয় ।

• কী কী লাগবে?

  • ক্যামেরা একটি DSLR বা ভালো মানের মোবাইল ক্যামেরা
  • ব্যাকড্রপ ব্লু( নীল) বা হোয়াইট( সাদা) ব্যাকড্রপ ব্যানার ।
  • প্রিন্টিং সেটআপ একটি প্রিন্টার এবং একটি ল্যাপটপ/কম্পিউটার।
  • সফটওয়্যার ফটোশপ বা পাসপোর্ট ফটো তৈরির জন্য বিশেষ সফটওয়্যার ।

কিভাবে শুরু করবেন?

এই ধরনের সেন্টার করার জন্য অবশ্যই আপনাদের একটি দোকান থাকতে হবে যদি না থাকে একটি দোকান ভাড়ায় নিয়েও এই ধরনের সেন্টার খুলতে পারেন।

সবার প্রথম এই ধরনের সেন্টার খোলার জন্য মিনিমাম দুটি রুম থাকতে হবে একটি রুমে যেখানে আপনি Customer দের ছবি তুলতে পারবেন এবং আরেকটি রুমে যেখানে আপনার কম্পিউটার , প্রিন্টার ইত্যাদি যাবতীয় সরঞ্জাম থাকবে এবং Customer যেখানে বসতে পারবে।

কত টাকা আয় করতে পারবেন?

আপনার যদি  Centre টি এমন জায়গায় হয়, যেখানে প্রচুর লোকজনের আনাগোনা তাহলে আপনি প্রতি মাসে ২০-২৫ হাজার টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

  • ফটো অনুযায়ী দাম নির্বাচন করুন। যেমন- পাসপোর্ট ফটোর জন্য আলাদা দাম, 4*6 Photo , 5*7 photo, A4 photo, print করার জন্য আলাদা দাম। আপনার দোকানে যেকোনো কালার প্রিন্ট বের করলে কত টাকা দাম এইসব দাম আগে নির্বাচন করুন।
  • এই সমস্ত দোকানে ইনকাম বাড়ানোর জন্য আপনি একটি মিনি জেরক্স মেশিন রাখতে পারেন যেখানে আপনি জেরক্স করতে পারবেন এবং অনলাইনে যেকোনো ফর্ম ফিলাপ করতে পারেন, বিভিন্ন যোজনার স্ট্যাটাস চেক করে দিতে পারেন, তাহলে আপনার income বাড়বে।
  • এই সমস্ত ইত্যাদি সার্ভিস গুলো আপনার দোকানে থাকলে অবশ্যই আপনি প্রতি মাসে ২০- ২৫ হাজার টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

Frequently Asked Questions

অল্প টাকা দিয়ে ব্যবসা করা সম্ভব?

হ্যাঁ সম্ভব, এই পোষ্টের মাধ্যমে যে সমস্ত ব্যবসার কথা বলা হয়েছে আপনি খুব অল্প টাকায় ব্যবসা গুলি শুরু করতে পারেন।

What is the CSC Full Form?

Common Service Centre

Conclusion

তাই আপনি এই পাঁচটি সেন্টার গুলির মধ্যে আপনার যেটা ভালো মনে হবে ,আপনার এলাকা অনুযায়ী,  আপনার ইনভেস্টমেন্ট অনুযায়ী ,ওই Centre Business করতে পারেন। তবে আপনি যে কোনো Business করুন না কেন, ব্যবসার শুরুর দিকে ইনকাম কম হবে আপনাকে ধৈর্য রাখতে হবে, পরে পরে যখন আপনার কাস্টমার বাড়বে তখন অবশ্যই ইনকাম বেশি হবে । তবে প্রথম দিকে অবশ্যই চেষ্টা করুন আপনার সার্ভিস গুলো ভালো দেওয়ার এবং দাম কম নেওয়ার , তাহলে আপনার কাস্টমার ধীরে ধীরে বাড়বে।

আপনার ব্যবসার জন্য আগাম শুভকামনা রইল।


Spread the love

2 thoughts on “কম খরচে লাভজনক গ্রামীণ ব্যবসা: গ্রামে বসেই শুরু করুন এই ৫টি ডিজিটাল সেন্টার (2025 গাইড)”

Leave a Comment